‎জাকির ফরাজী

খানাকুনিয়ারী পি.ই.আর.সি ফাজিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্য সহ নানা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন খানাকুনিয়ারই এলাকার ভুক্তভোগী পরিবার।

‎সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো: মানিক শেখ বলেন আব্দুল হক খানাকুনিয়ারী পি.ই.আর.সি ফাজিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নিয়মিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব আছেন। তিনি নিজের পথ পদবী গোপন করে ও ক্ষমতা প্রদর্শন করে বছরের পর বছর ধরে না না চালিয়েতি ও জঘন্য অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

‎তিনি গত পাঁচ বছরে এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষ ও বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কমপক্ষে ১০ জনের কাছ থেকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার অন্যায়ের বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করেন।

‎এছাড়াও পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় বাস্তবে তেমন নিয়মিত ক্লাস হয় না আবাসিক কোনো শিক্ষার্থী ও নেই। অথচ আব্দুল হক বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভুয়া ও বানোয়াট কমপক্ষে ১৭০ জন শিক্ষার্থীর তালিকা জমা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নানাবিধ বরাদ্দ ও অসুবিধা গ্রহন করে আসছে।

‎ভুক্তভোগী মনিরা জেসমিন বলেন, চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারক আব্দুল হক তার থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এখন আর তিনি যোগাযোগ করেন না।

‎‎ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান বলেন, পশ্চিম কদমতলা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রবণ দেখিয়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আব্দুল হক। বারবার চাইলেও তিনি টাকা ফেরত দেননি।

‎‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হক জানান এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। একটি চক্রতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি দাবি করেন।

‎‎সংবাদ সম্মেলনে পশ্চিম কদমতলা এলাকার মো: মানিক শেখ, আব্দুর রাজ্জাক, মো: আতিকুর রহমান, মনিরা জেসমিন সহ ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।