মোঃ মিজানুর রহমান মিন্টু: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার শিশু সন্তানকে নির্মমভাবে মারধর এবং গাছে বেঁধে নির্যাতন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ রমিছা খাতুন (৩৫) বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর গ্রামের মোঃ নূরুল হকের স্ত্রী মোছাঃ রমিছা খাতুনের ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল একই এলাকার মোঃ আইয়ুব আলী ও মোঃ সালামের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ। এ নিয়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলাও (MR-৩৬/২৫) চলমান রয়েছে।

গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০:৩০ মিনিটে বিবাদীরা জোরপূর্বক ওই বিরোধপূর্ণ জমির পাট কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে রমিছা খাতুন বাধা দিলে ১নং বিবাদী মোঃ আইয়ুব আলী (৪০), ২নং বিবাদী মোঃ সালাম (৫০) ও ৩নং বিবাদী মোঃ মইনুল হক (২০) সহ অন্য হামলাকারীরা তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা রমিছা খাতুনকে চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ২নং বিবাদী তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং ১নং বিবাদীর নির্দেশে ৩নং বিবাদী ভুক্তভোগীর শরীরে শ্যালো মেশিনের ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। গৃহবধূর চিৎকারে বিবাদীরা তাকে টেনে নিয়ে আইয়ুব আলীর বাড়ির উঠানের একটি আকাশমণি গাছের সাথে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় মায়ের ওপর নির্যাতন দেখে তার ৩-৪ বছরের শিশু সন্তান রাকিব কান্না শুরু করলে হামলাকারীরা তাকেও এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে।

নির্যাতনের একপর্যায়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে তেঁতুলিয়া মডেল থানার কর্তব্যরত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এসে গৃহবধূকে গাছের বাঁধন থেকে উদ্ধার করে এবং হামলাকারীদের কবল থেকে মা ও শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। থানার এজাহার গ্রহণপূর্বক পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

ঘটনার সত্যতা ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, "৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।