যশোরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে নিজের মাকে বটি দিয়ে শিরশ্ছেদ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বাজে দুর্গাপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত নারীর নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮), তিনি ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন মাস্টারের স্ত্রী। অভিযুক্ত ছেলে মো. মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন (৪০) বর্তমানে লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মামুন পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামুনের এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। তবে উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের কারণে শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। মামুন মনে করতেন, তার এই বিচ্ছেদের পেছনে তার মায়ের ভূমিকা রয়েছে। এই ক্ষোভ থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং মাঝেমধ্যে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছিল। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, যেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মামুন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বাড়িতে ছিলেন না। দীর্ঘ বিরতির পর গত বৃহস্পতিবার তিনি হঠাৎ বাড়িতে ফিরে আসেন। বিকেলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। উত্তেজনার চরম পর্যায়ে মামুন ধারালো বটি দিয়ে মায়ের গলায় কয়েকটি কোপ দেন, যার ফলে শরীর থেকে মাথা আলাদা হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আনোয়ারা বেগমের। वारदात সংগঠনের পরপরই মামুন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুম খান জানান, পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।