চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এক প্রবল জোয়ারের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিনেই দেশে এসেছে মোট ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। গত বছরের একই দিনে দেশে এসেছিল ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একদিনের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার।

পরিসংখ্যানের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসে প্রবাসীরা দেশে মোট ৫৯৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর বিপরীতে গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪৯৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে মোট ৯৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। শতাংশের হিসেবে এই প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা প্রায় ১৯ শতাংশের কাছাকাছি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী অবস্থানকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল করতে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিবৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক। জুলাই ও আগস্ট মাসের ধারাবাহিক সাফল্যের পর সেপ্টেম্বরের শুরুতেও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকায় আগামী দিনগুলোতে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রবাসীদের এই অবদান দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।