মাফিকুল ইসলাম,

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের রসুলপুর মোড়ে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে হাঁটুসমান জলাবদ্ধতা। খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্ট–বদরগঞ্জ–পার্বতীপুর সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহনের চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মোড়ে একটি ড্রেন থাকলেও সেটি কার্যকরভাবে পানি নিষ্কাশন করতে পারছে না। ভারী যানবাহনের চলাচলে ড্রেনের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মাটি ভরাট ও উঁচু করে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় বৃষ্টির পানি সহজেই পাশের নিচু জমিতে নেমে যেত। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বৃষ্টির পানি বের হওয়ার সুযোগ না থাকায় পুরো মোড়জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টি হলেই দোকানের সামনে পানি জমে ক্রেতাদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটে। এতে ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে পথচারীদের অনেকেই কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন।

এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, “রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ সমস্যা আরও প্রকট হবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম সোহাগ নিজস্ব অর্থায়নে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত স্থানে জমির মালিকের আপত্তির কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেন সংস্কার, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ উন্মুক্ত রাখা এবং প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কারের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করা হোক। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।