জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। নিষিদ্ধ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিবসহ রাজশাহী অঞ্চলের মোট ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মামলাটিতে মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর শুনানি শেষে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেওয়া হয়।
মর্মে উল্লিখিত আসামিদের তালিকায় রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন বিপ্লব এবং ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ছাত্রনেতার নাম রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই প্রসিকিউশন এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যেখানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ মোট ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং বোয়ালিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর। প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে রাজশাহীতে আন্দোলনকারীদের ওপর অমানবিক হামলা, হত্যা এবং গুরুতর আহত করার ঘটনায় এই আসামিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশেষ করে, আন্দোলনকারী রায়হান আলী ও আন্জুম সাকিবের নির্মম হত্যা এবং আরও অনেক সাধারণ মানুষকে গুরুতর আহত করার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়।
ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, "আসামিরা সবাই স্পষ্টভাবে চিহ্নিত। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্তে আমরা অত্যন্ত খুশি। তবে আমার প্রশ্ন হলো, চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের এত বিলম্ব কেন? তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে আমি মনে করি। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আসামিদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং তাদের পায়ের নিচের মাটি শক্ত হচ্ছে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, আদালতের পরোয়ানা জারির পর প্রশাসন কত দ্রুত এই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পারে।










