গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক (নূর) এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খানকে ‘রাজনৈতিক ভাইরাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সাবেক বিএনপি ও বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর নেতা ড. ফয়জুল হক। মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক কড়া বার্তায় তিনি এই দুই নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা ও সততা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
ড. ফয়জুল হক তার পোস্টে দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক শিষ্টাচারের খাতিরেই তিনি এতদিন এই দুজনের ‘গোপন দালালি’র বিষয়টি জনসমক্ষে আনতে চাননি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি তাদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “নূর ও রাশেদ এই সমাজের জন্য ভাইরাসের মতো। বিগত সরকারের দুঃসময়ে তারা এই ভাইরাসগুলোকে ব্যবহার করে নিজেদের সময় পার করার চেষ্টা করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তখন নূর-রাশেদ এবং মেন্দি সাফাদির মতো ইস্যুগুলোকে সামনে এনে সরকার জনদৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত। একই সাথে গণঅধিকার পরিষদকে ভেঙে বিভিন্ন সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ড. ফয়জুল হকের মতে, পরিকল্পিতভাবে এমন প্রচারণা চালানো হতো যে নূর-রাশেদের দল বিএনপি ও জামায়াতের চেয়েও শক্তিশালী।
বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াত নেতা বলেন, ঠিক একই উপায়ে বর্তমান সরকারও এই দুই ব্যক্তিকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে, যাতে তারা রাজনৈতিক ভাইরাস ছড়াতে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতারা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কারণে যেসব কথা বলতে লজ্জা পান, সেসব বিতর্কিত বক্তব্য নূর-রাশেদকে দিয়ে প্রকাশ করানো হয়, যার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ধামাচাপা দেওয়া হয়।
নূর ও রাশেদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে থাকার দাবি করে ড. ফয়জুল হক বলেন, তারা কখন কী ধরনের লেখালেখি করেছেন এবং তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সব খুঁটিনাটি তার জানা আছে। এমনকি এই দুজনের ‘রশি’ কোথায় বাঁধা, অর্থাৎ কার নির্দেশে তারা কাজ করছেন, তাও তার জানা আছে বলে দাবি করেন তিনি।










