শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর ভাগ্য বদলে দিতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ। নিজ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে ওই এলাকার ২১৬ জন বেকার ও অভাবী মানুষকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত ৫৩ জনের হাতে ভিসা ও বিমান টিকিট তুলে দেওয়া হয়েছে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর মেটকো এন্টারপ্রাইজের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই নথিপত্র হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটকো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ফারহানা কাদির রহমান, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম হামিদ সরদার, নড়িয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ রিন্টুসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে মেটকো এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ফারহানা কাদির রহমান বলেন, বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তবে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ নিজের পকেট থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এই মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি কোনো ব্যক্তিগত লাভের কথা চিন্তা না করে বরং তাঁর নিজ জেলা ও নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য এই অর্থ ব্যয় করেছেন। দেশ ও এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই তিনি প্রকৃত মানসিক শান্তি লাভ করেন।
বিদেশে যাত্রা করতে যাওয়া যুবকদের উদ্দেশ্যে ফারহানা কাদির রহমান বিশেষ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, "তোমাদের প্রত্যেকেরই হয়তো ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ রয়েছে কিংবা কোনো দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। তবে বিদেশের মাটিতে তোমাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে না। বরং তোমাদের আচরণ ও কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে হবে এবং যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছ, সেই কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে।"
সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ তাঁর বক্তব্যে জানান, সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় পরিবারগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, "বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের এই সুযোগ দিয়ে আমি চাই আমার এলাকার মানুষ অভাবমুক্ত হোক। শুধুমাত্র টিকিট বা ভিসা দেওয়া নয়, বরং বিদেশগামীদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে যোগ্য কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।" তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে ৫৩ জনকে পাঠানো হলেও খুব দ্রুত বাকিদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।










