আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়’। তার মতে, কেবল আওয়ামী লীগের সদস্য হওয়ার কারণেই কাউকে ঢালাওভাবে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই মতামত ব্যক্ত করেন। মেঘনা আলম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, আওয়ামী লীগের সকল সদস্য ক্ষমতা বা সুযোগ-সুবিধার অংশীদার ছিলেন না। অনেক মানুষ দলটির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনো বিশেষ সুবিধা পাননি, বরং অনেকে কেবল ব্যবহৃত হয়েছেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলে তিনি বলেন, ‘যে যেই অপরাধ করেছে, তাকে সেই নির্দিষ্ট অপরাধের জন্যই গ্রেপ্তার করা হোক। আইনি প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেই ওই দলের প্রতিটি ব্যক্তি ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেন না। তাই আওয়ামী লীগ কর্মী হলেই তাকে অপরাধী মনে করা যেমন ভুল, তেমনি কেউ বিএনপি কর্মী হলেই তার অপরাধ উপেক্ষা করাও উচিত হবে না।
আওয়ামী লীগের ভেতরেই অনেক মানুষ দেশের বৃহত্তর স্বার্থে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে দাবি করেন মেঘনা। তিনি বলেন, অনেকে দল ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পদত্যাগ করেছেন, অনৈতিক কাজে জড়াননি কিংবা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক দলের সাথে ধর্মের পার্থক্য টেনে মেঘনা আলম বলেন, ‘লীগ কোনো ধর্ম নয়। প্রকৃতপক্ষে কোনো রাজনৈতিক দলই ধর্ম হতে পারে না। মানুষ পরিবর্তনশীল এবং মানুষ তার ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে শুধরে নিতে পারে, এটাই কাম্য।’
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর প্রতিশোধমূলক আচরণের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি আমরা অন্যদের মতো আওয়ামী লীগের ওপর একই ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালাই, তবে আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য কী থাকবে?’ নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি নিজে অন্যায়ের শিকার হয়েছি বলে কখনোই অন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াব না।’










