সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা খ্যাতনামা সংগঠন ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংগঠনটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন অভিযোগে আটক থাকা এই তিন অভিজ্ঞ সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিকরা উসকানিমূলক প্রশ্ন করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব প্রশ্নের প্রতিক্রিয়ায়ই শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী দমনপীড়নের পথ বেছে নেন।
এই পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে সিপিজে’র এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার তার বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানান, সংবাদ সম্মেলনে কেবল প্রশ্ন করার কারণে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো চরম গুরুতর মামলা দায়ের করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সম্পূর্ণ অন্যায্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কোনো সংবাদমাধ্যমের সম্পাদনা সিদ্ধান্ত একপাক্ষিক হতে পারে কিংবা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, তবে তাকে কখনোই আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এই ধরনের পদক্ষেপ একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।” কুনাল মজুমদার অবিলম্বে এই তিন সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপাকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর দমনপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি আইসিটি মামলায় গত মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে ওই মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়। অন্যদিকে, ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।










