জাকির ফরাজীঃ,
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে সংগঠনটির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহ মোঃ আদনানের নাম। তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। আগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বরগুনা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১০ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন আদনান। বরগুনা সরকারি কলেজে অধ্যয়নকালে ১/১১-এর সরকারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি। একপর্যায়ে হামলার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও জানা যায়। পরে তাঁকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিতি পান সালেহ মোঃ আদনান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া বিএনপির এক দফা দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশ, রোডমার্চ, ঢাকার প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি, হরতাল ও অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।
ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে সংগঠনের অভ্যন্তরে সৃষ্ট সংকটের সময়ও দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন সময়ে মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আসন্ন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদে সালেহ মোঃ আদনানের নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে সভাপতি পদে শেষ পর্যন্ত কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।











