নায়িকা পূজা চেরীর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় এবং অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তাঁর মা। তবে গত বছর এক অপূরণীয় ক্ষতিতে মাকে হারিয়েছেন তিনি। পূজা জানান, তাঁর মায়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল মেয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক এবং অসাধারণ সব চরিত্রের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের মনে স্থায়ী আসন গড়ুক। মায়ের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন আর রেখে যাওয়া অমূল্য উপদেশগুলোকেই পাথেয় করে জীবনের সামনের পথচলায় নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান এই অভিনেত্রী।
স্মৃতিকাতর হয়ে পূজা বলেন, “মা সব সময় আমাকে বলতেন, ‘পূজা, তুমি অত্যন্ত শক্ত মনের মানুষ। তোমার চলার পথে যত বাধাই আসুক না কেন, তুমি তা ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে পারবে—এই বিশ্বাস আমার আছে।’ আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি মায়ের সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে।” সামনে আরও কয়েকটি সিনেমার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান পূজা। তিনি আশাবাদী যে, নতুন এই চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পেলে তাঁর ক্যারিয়ারে এক নতুন গতি আসবে এবং তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
পারিবারিক পটভূমিতে পূজা চেরীর বাবা একজন ব্যবসায়ী এবং মা ছিলেন গৃহিণী। শৈশবেই শিশুশিল্পী হিসেবে রুপালি পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের নজর কাড়েন। পরবর্তী সময়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজিত ‘নূর জাহান’, ‘পোড়ামন ২’ এবং ‘দহন’ সিনেমার মতো জনপ্রিয় কাজগুলোতে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি পড়াশোনার বিষয়েও বাবা-মায়ের বিশেষ প্রত্যাশা ছিল। পূজা জানান, পড়াশোনার ব্যাপারে তাঁরা কখনোই কোনো ছাড় দিতে চাননি। তিনি বলেন, “বাবা-মা সবসময় চেয়েছেন আমি যেন পড়াশোনায় ফাঁকি না দিই। এখন পর্যন্ত আমাকে নিয়ে তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই এবং আমি সেই প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি রাখতে চাই না।”
নাচে পারদর্শী পূজা চেরীর বিনোদন জগতের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ছোটবেলায় বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্রে সমানতালে কাজ করার পর, প্রায় ছয় বছর আগে নায়িকা হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।











