বলিউডের রুপালি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দা আবারও তার ব্যক্তিগত জীবন এবং প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে বিনোদন জগতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। সম্প্রতি তার আসন্ন চলচ্চিত্রের সহ-অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ইন্টারনেটে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মূলত গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজা যখন তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া এবং প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন, তখন থেকেই এই প্রেম নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। পেজ থ্রির সংবাদের শিরোনামে এখন কেবল এই দম্পতির অশান্তি আর নতুন সম্পর্কের গুঞ্জনই ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুলাই মাসে, যখন গোবিন্দা তার নতুন সিনেমা ‘রূপা’-র সহ-অভিনেত্রী হিসেবে প্রথমবার কোমল রানি স্বর্ণকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। কোমল মূলত হিন্দি বিনোদন জগতের একজন একদম নতুন মুখ, যিনি বলিউডে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ‘রূপা’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে মূলধারার সাধারণ দর্শকদের কাছে তিনি প্রায় অপরিচিতই ছিলেন। জানা গেছে, কোমল মূলত ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা একজন নবীন শিল্পী। যদিও গণমাধ্যম বা জনসমক্ষে তার পারিবারিক পটভূমি, সঠিক বয়স কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য খুব বেশি প্রকাশ করা হয়নি, তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। সেখানে ১৫ হাজারের বেশি অনুসারীর একটি নিজস্ব ভক্তগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন তিনি, যেখানে নিয়মিত তার ছবির শুটিংয়ের নানাবিধ দৃশ্য এবং ব্যক্তিগত জীবনের আপডেট শেয়ার করে থাকেন।
শুধু ‘রূপা’ সিনেমাই নয়, নতুন প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে গোবিন্দার সঙ্গে ‘দুনিয়াদারি’ নামে আরও একটি চলচ্চিত্রে কাজ করছেন কোমল। ফলে প্রতিবেদনগুলোর তথ্য যদি সঠিক হয়ে থাকে, তবে নবীন এই অভিনেত্রীকে খুব শিগগিরই বলিউডের প্রবীণ তারকা গোবিন্দার সঙ্গে পরপর কয়েকটি চলচ্চিত্রে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে। সম্প্রতি মুম্বাই বিমানবন্দরে গোবিন্দার সঙ্গে কোমলকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা হলে বিনোদনপাড়ায় এই গুঞ্জনের ডালপালা আরও নতুন করে মেলতে শুরু করে। বিমানবন্দরে দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার বিষয়টি যখন জানাজানি হয়, তখন গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা আহুজার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বভাবসুলভ কড়া ভাষায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
প্রবাদের কথা উল্লেখ করে ক্ষুব্ধ সুনীতা বলেন, ‘বিনাশকালে বিপরীত বুদ্ধি’—হয়তো গোবিন্দার আক্কেলও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং সে কারণেই সে এসব করে বেড়াচ্ছে। এখন এই বিষয় নিয়ে তার আর নতুন করে বলার কিছুই নেই। নিজের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে সুনীতা পরবর্তীতে গোবিন্দার অন্ধ ভক্তদের উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, যখনই তিনি স্বামী গোবিন্দার পরকীয়া বা ধোঁকা দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে এনেছেন, তখনই ওই ভক্তরা উল্টো তাকেই ট্রোল করেছে এবং অপমান করেছে। তিনি চান এবার গোবিন্দার সেই অন্ধ ভক্ত এবং সংবাদমাধ্যমই যেন এই সবকিছুর সঠিক জবাব দিক। তাকে যেন আর এই বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করা হয়, কারণ এসব তিক্ত বিষয়ে তার আর বিন্দুমাত্র আগ্রহ অবশিষ্ট নেই। উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া গোবিন্দা ও সুনীতা দম্পতির ঘরে টিনা আহুজা এবং যশবর্ধন আহুজা নামে দুটি সন্তান রয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি।











