আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে যাবতীয় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে জাতীয় সংসদের বর্তমান ৩৪৯ জন সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই নির্বাচনের একটি বিশেষ এবং আলোচিত দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রার্থীর ভোটাধিকার। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এর প্রধান কারণ হলো, তিনি জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্য নন। অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী নিজের ভোট নিজেই প্রদান করতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের বিধান অনুযায়ী, কেবলমাত্র জাতীয় সংসদের সদস্যরাই এই বিশেষ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে গণ্য হন। সেই নিয়ম মেনেই বর্তমানে সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যকে ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে একটি বিশেষ তথ্যের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচিত প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় বর্তমানে ওই আসনে কোনো সংসদ সদস্য নেই।
সংসদের বর্তমান আসন বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণ আসনে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২১১ জন, জামায়াতের ৬৮ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৬ জন, অন্যান্য দলের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৭ জন। পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনে বিএনপি ও সমমনা দলের সদস্য রয়েছেন ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন এবং স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন একজন। এই সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অনুকূলে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তফসিল অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই তফসিল অনুসরণ করে, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এরপর ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কমিশনের যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমেদ—উভয় প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর থেকে ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে সংসদ সদস্য না হওয়ার আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে অলি আহমেদ নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা এই নির্বাচনের একটি বিশেষ আইনি জটিলতা হিসেবে সামনে এসেছে।









