প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে সব স্তরের স্থানীয় কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই নির্দেশনার আওতায় আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হালনাগাদকৃত কমিটির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা একটি দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অতীতে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কমিটিগুলোর অধিকাংশ বেশ কয়েক বছর আগে গঠিত হওয়ায় বর্তমানে সেগুলো সময়ের সাথে সংগতিপূর্ণ বা হালনাগাদ নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কমিটির প্রজ্ঞাপন কিংবা তাদের কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন করে হালনাগাদ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিস্তারিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর হবে এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূলের প্রতিফলন ঘটবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তিন সদস্যের মধ্যে অন্তত একজন নারী প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে নারী ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এই তিনজনের মনোনয়ন প্রদান করবেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংযুক্ত তালিকায় থাকা ৯৮টি বিশেষ কমিটিসহ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের আওতাধীন বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সব বিদ্যমান কমিটি দ্রুত হালনাগাদ করতে হবে। এই পুরো পুনর্গঠন ও হালনাগাদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর সরকারের বিভিন্ন স্তরের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমে অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে, যা সামগ্রিকভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।










