শরীয়তপুরের ডামুড্যা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। ডামুড্যা উপজেলার আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজের ভেতরে জন্মানো কাশবন, আগাছা ও স্তূপ করে রাখা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ এর অংশ হিসেবে ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অভিযানের আওতায় নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণে বেড়ে ওঠা কাশবন ও নানা ধরনের আগাছা কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে নির্ধারিত স্থানে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে ডামুড্যা শহরের হাসপাতাল, বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারাদেশে একযোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ডামুড্যা উপজেলাতেও এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আজকের আয়োজনটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর জনগণকে দেওয়া একটি পরিচ্ছন্ন শরীয়তপুর ও ডামুড্যা উপহার দেওয়ার প্রত্যয় বাস্তবায়নে তার নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় এ বিশেষ অভিযান চলছে। আজ আলহাজ্ব আব্দুর রাজ্জাক নার্সিং কলেজ থেকে শুরু হয়েছে, পর্যায়ক্রমে হাসপাতাল, বাজারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পরিচালনা করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান মধু, উজ্জ্বল শিকদার ও আলমাস সরকার, ডামুড্যা পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন মাদবর, শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল মাদবর, ডামুড্যা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন মেহেদীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি। তাই নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।