সুযোগ পেলে জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। কুষ্টিয়ায় জামায়াত এমপি আমির হামজার কর্মী-সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে সোহান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আক্ষেপ করে বলেন, ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে, যারা ফ্যাসিবাদের আমলে মজলুম ছিল, তারা সবাই মিলেমিশে একটি ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণ করবে। কিন্তু আমরা বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ক্ষমতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের ছয় মাস পার হতে না হতেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বিষোদগার শুরু করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে বিভিন্ন কর্মসূচির নামে তারা সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই শক্তি প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই কুষ্টিয়ায় তাদের একজন উন্মাদ সংসদ সদস্যের নির্দেশে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে।’

হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করে নুরুল হক নুর জানান, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদক মহাদিসকে নির্মমভাবে কুপিয়ে তার পায়ের দুটি রগ কেটে ফেলা হয়েছে। অন্যদিকে, সভাপতি সোহানকে বেসবল ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তার নাকের হাড় ভেঙে যায় এবং তাকে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে জামায়াত-শিবির হয়তো মজলুম ছিল, কিন্তু গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডে তারা প্রমাণ করেছে যে, তারা এখন একটি জালেম সংগঠনে পরিণত হয়েছে।’ তিনি এই উগ্রবাদী ও ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সমাজের জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, ‘এই জামায়াত-শিবির ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজ ও দেশের জন্য চরম ক্ষতি বয়ে আনবে। তাই সর্বস্তরের জনগণকে এখন থেকেই তাদের প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে।’

জামায়াত-শিবিরের নিষিদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর গণহত্যার কারণে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে এর চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণ চালানো হয়েছিল। সেই ১৯৭১ সালের নৃশংসতার কারণে জামায়াত-শিবিরকেও নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। আমি এই বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে আলোচনা করব।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের অতীত ইতিহাস মূলত রগকাটা, ধর্ষণ এবং দখলদারির ইতিহাস। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সময়ে তারা ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। নুরুল হক নুরের দাবি, তারা বর্তমান সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সেখানে নিজেদের লোক নিয়োগ করে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। পরিশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, জামায়াত-শিবিরকে কোনোভাবেই সুযোগ দেওয়া যাবে না; কারণ তারা সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে এই দেশ ও জাতির জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসবে।