স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকার হাজারীবাগ থানা এলাকার ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউচর আমড়া টাওয়ার ১ নম্বর গলিতে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে এক চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন মোঃ সবুজ খান ও তার পরিবার। রাস্তার সামনে অবৈধ স্থাপনার কারণে বর্তমানে ওই এলাকায় চারটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সবুজ খানের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত চলাচলের রাস্তাটি প্রতিবেশী মৃত আওলাদ হোসেনের মেয়ে সাথী আক্তার বাড়ি নির্মাণের কথা বলে চার ফুটের রাস্তার সামনে ঘর নির্মাণ করেন। এর ফলে রাস্তাটি আংশিক বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় এলাকাবাসী বিকল্প পথে চলাচল শুরু করলেও সবুজ খানের জন্য কোনো বিকল্প রাস্তা ছিল না। ফলে তিনি অত্যন্ত কষ্ট করে মাত্র এক ফুটের একটি সরু পথ দিয়ে কোনোমতে যাতায়াত করছিলেন।
কিন্তু গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে সাথী আক্তার ও তার সহযোগীরা সেই শেষ এক ফুটের পথটিও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। এতে সবুজ খানের স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। চরম অসহায় হয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে হাজারীবাগ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে এবং বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে।
পরবর্তীতে গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে সবুজ খান স্থানীয় হাজারীবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, তবে সেখান থেকে কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে তিনি ৫ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানান, যাতে তার বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তাটি খুলে দিয়ে প্রতিকার পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে সাথী আক্তার ও তার পরিবারকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে আগামী ২ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও তারা কেউ উপস্থিত হননি।
ভুক্তভোগী সবুজ খান আক্ষেপ করে বলেন, "এই রাস্তাটি প্রায় ত্রিশ বছরের পুরনো, যা আমরা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করে আসছি। কোনো কারণ ছাড়াই সাথী আক্তার এবং তার পরিবার রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। সামান্য এক ফুটের যে পথ দিয়ে যেতাম, সেটিও তারা বন্ধ করে দিয়েছে।"
এমতাবস্থায়, মোঃ সবুজ খান জেলা প্রশাসকের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন যেন ভুক্তভোগী পরিবারের জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের চলাচলের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয়।






