ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের চরম অবহেলায় বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম নাসিমা আক্তার। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে আনার পর সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জীবন রক্ষাকারী এন্টিভেনম না দেওয়ায় তার অকাল মৃত্যু ঘটেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার। রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাইরে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনে দরজা খোলেন নাসিমা আক্তার। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু দরজা খুলে বাইরে পা রাখতেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিষধর এক সাপ তাকে ছোবল মারে। সেই সময় ঘরে নাসিমার মা, স্বামী এবং পুত্রবধূ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও দ্রুত বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ছটফট করতে থাকেন। দ্রুত তাকে স্থানীয় ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

হাসপাতালে পৌঁছালে ডিউটি ডাক্তার চিরঞ্জিত সরকার তাকে দেখেন। অভিযোগ উঠেছে, সাপে কাটার লক্ষণগুলো যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই ডাক্তার তাকে ৬তলার মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। নাসিমার স্বামী বারবার এন্টিভেনম দেওয়ার অনুরোধ জানালেও ডাক্তার তাতে কর্ণপাত করেননি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত কর্মচারী শাহাদাত জানান, বিষধর সাপের কামড় নির্ণয় করতে রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা হয়েছিল। রক্ত জমাট না বাঁধায় ডাক্তারের পরামর্শে রোগিকে ৬তলায় পাঠানো হয়। সেখানে সিনিয়র স্টাফ নার্স আলো রানী কর্মকারের তত্ত্বাবধানে জুনিয়র নার্সদের দিয়ে একটি স্যালাইন পুশ করিয়ে তাকে শুইয়ে রাখা হয়। এরপর বিষক্রিয়ায় তীব্র ছটফটানির মধ্য দিয়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই নাসিমার মৃত্যু হয়।

নিহত নাসিমা ফেনী সদর উপজেলার বড় ধলিয়া গ্রামের আবদুল হামিদ মৌলভী বাড়ির আহমদ করিমের স্ত্রী।

সাপের বিষ নিয়ে গবেষণারত বিশেষজ্ঞদের মতে, গোখরা জাতীয় সাপের বিষে সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধে না। গোখরার বিষ মূলত নিউরোটক্সিন জাতীয়, যা সরাসরি মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে আক্রমণ করে। ফলে শরীরের মাংসপেশি অবশ বা প্যারালাইজড হয়ে যায় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে শ্বাসকষ্টের কারণে মৃত্যু হতে পারে। ফলে কেবল রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা চিকিৎসকের বড় ভুল ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এই মর্মে অভিযুক্ত ডাক্তার চিরঞ্জিত, হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল এবং নার্স আলো রানীকে ফোনে தொடர்பு করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে জরুরি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ ব্রাদার আবদুস সাত্তার জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে এক নারীকে সাপে কাটা অবস্থায় আনা হয়েছিল এবং ডিউটি ডাক্তার তাকে ৬তলায় ভর্তি দিয়েছেন, যা রেজিস্টারে নথিভুক্ত আছে। নিহতের স্বামী আহমদ করিম আক্ষেপ করে বলেন, তার স্ত্রীকে বিষধর সাপ কামড়ালেও সঠিক সময়ে এন্টিভেনম দেওয়া হয়নি, যার ফলে শ্বাসকষ্টে তার মৃত্যু হয়েছে।