চীনের এক ছোট্ট শিশুর নিঃস্বার্থ ত্যাগের গল্প আজও বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। এটি কেবল একটি চিকিৎসাবিদ্যার কাহিনী নয়, বরং মা ও সন্তানের অটুট ভালোবাসার এক অনন্য ও করুণ উপাখ্যান। একদিকে কিডনি প্রায় অকেজো হয়ে জীবন সংকটে ছিলেন এক মা, অন্যদিকে মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই মরণব্যাধি মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হন তার আদরের সন্তান চেন শিয়াওতিয়ান। মা তখন নতুন একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন, আর ছোট্ট চেন লড়ছিল তার জীবনের শেষ লড়াইয়ে। কিন্তু নিয়তি ছিল নির্মম; চিকিৎসকরা একসময় জানিয়ে দেন, তার রোগ আর নিরাময়যোগ্য নয়।
এমন চরম মুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয় যে, চেনের কিডনি যেন তার মায়ের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। একজন মায়ের পক্ষে এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছিল অসম্ভব। নিজের সন্তানের অঙ্গ নিয়ে বেঁচে থাকার কথা তিনি কোনোভাবেই কল্পনা করতে পারছিলেন না। কিন্তু পাশের ঘর থেকে এই করুণ কথোপকথন শুনে ফেলেছিল ছোট্ট চেন। মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সেই শিশুটি সিদ্ধান্ত নেয়, সে পৃথিবী ছেড়ে গেলেও তার শরীরের একটি অংশ যেন তার মাকে বাঁচিয়ে রাখে। সে নিজেই তার মাকে জানায় যে, সে তাকে জীবন দিতে চায়।
২০১৪ সালের ২ এপ্রিল, মাত্র সাত বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে চেন শিয়াওতিয়ান। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিংঝৌ শহরের টংজি হাসপাতালে তার একটি কিডনি মায়ের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে চেনের এই মহৎ দান কেবল তার মাকেই নতুন জীবন দেয়নি। তার অপর কিডনিটি প্রতিস্থাপন করা হয় জিয়াংইয়াং শহরের ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর শরীরে। এছাড়া তার লিভার নতুন জীবন দান করে উহানের লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এক রোগীকে।
একটি ছোট্ট শিশুর জীবন থেমে গেলেও থেমে থাকেনি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মৃত্যুর পর নিজের অঙ্গদানের মাধ্যমে সে বাঁচিয়ে রাখল একাধিক মানুষকে—আর সবচেয়ে বড় কথা, বাঁচিয়ে রাখল তার জন্মদাত্রী মাকে। একজন মায়ের জন্য এর চেয়ে গভীর ও আবেগঘন অনুভূতি আর কী হতে পারে? যে সন্তানকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করেছেন, পরম মমতায় কোলে নিয়ে বড় করেছেন, শেষ পর্যন্ত সেই সন্তানেরই একটি কিডনি হয়ে রইল তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। চেন পৃথিবী থেকে চলে গেছে, কিন্তু মায়ের প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি হৃদস্পন্দনে যেন চিরকাল রয়ে গেল তার অস্তিত্ব।




















