১৯৮৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত, যা আজও ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিংবদন্তি ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিতর্কিত গোল, যা ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অফ গড’ বা ‘ঈশ্বরের হাত’ নামে পরিচিত, তার ব্যবহৃত সেই ঐতিহাসিক বলটি সম্প্রতি এক নিলামে বিক্রি হয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের সেই রোমাঞ্চকর জয়ে ম্যারাডোনা ব্যক্তিগতভাবে দুটি গোলই করেছিলেন। প্রায় চার দশক অতিবাহিত হলেও এই দুটি গোলের প্রভাব এবং বিতর্ক আজও ফুটবল প্রেমীদের মনে অম্লান।

ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি ছিল ম্যারাডোনার একক প্রচেষ্টায় করা এক অসাধারণ শিল্পকর্ম। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করে করা সেই গোলটি পরবর্তীতে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে প্রথম গোলটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির, যা ইংল্যান্ডের ফুটবল ভক্তদের মনে ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ইতিহাসে ‘হ্যান্ড অফ গড’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এই গোলটি আজও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় বিতর্ক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ম্যারাডোনা রসিকতার সুরে বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছিল কিছুটা আমার মাথা দিয়ে আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘হেরিটেজ অকশনস’-এ এই ঐতিহাসিক বলটি ২৫ লক্ষ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সমান। যদিও নিলামের আগে আশা করা হয়েছিল বলটি ৭৩ লক্ষ পাউন্ড পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে। নিলামের আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেরিটেজের বিশেষজ্ঞ নিলামকারী মাইক প্রোভেনজালে এই সামগ্রীর গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি অদ্বিতীয় জিনিস। কোনো সন্দেহ ছাড়াই এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল সামগ্রী হিসেবে গণ্য করা হয়।’

ম্যাচটির রেফারি তিউনিসিয়ার আলি বিন নাসের খেলা শেষে সেই বিখ্যাত ‘অ্যাডিডাস অ্যাজটেকা’ বলটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তা নিজের কাছে যত্ন করে রেখেছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি একটি স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যে, ওই ম্যাচটিতে ব্যবহৃত একমাত্র বলটিই তার কাছে ছিল, যা পরবর্তীতে যথাযথভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়। বিন নাসের ২০২২ সালে বলটি ১.৭৪ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করেছিলেন। এর পরবর্তী মালিক ২০২৩ সালে এটি পুনরায় নিলামে তোলার চেষ্টা করলেও নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কাছাকাছি দর না পাওয়ায় সেটি তখন বিক্রি হয়নি। উল্লেখ্য, একই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা ঐতিহাসিক জার্সিটি ২০২২ সালের এক নিলামে ৭.১ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।