মিরপুরের আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে মারধর, বিদ্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর এবং জোরপূর্বক সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক কিরণময় দত্তকে পুনর্বহালের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক কিরণময় দত্তসহ মব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদের শোকজ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, গত ১৫ ও ১৬ আগস্ট কিরণময় দত্তসহ একদল ব্যক্তি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তারা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও স্থাপনা ভাঙচুর করার পাশাপাশি শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর শারীরিক হামলা চালান। এর ধারাবাহিকতায় ১৭ আগস্ট পুনরায় বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এই হামলার ফলে প্রধান শিক্ষকের কানে সাময়িক শ্রবণশক্তির ক্ষতি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এছাড়া হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার আগে প্রধান শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। উক্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ২ জুলাই কমিটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, তদন্ত চলাকালীন ১৪ জন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়, সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক কিরণময় দত্ত শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও লিখিত নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই আন্দোলনে যুক্ত করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের নগদ অর্থ প্রদান, ব্যানার ও ফেস্টুন সরবরাহ এবং বিভিন্ন স্থানে সভা আয়োজনের পেছনে তার সরাসরি ভূমিকা থাকার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কিরণময় দত্তের বিরুদ্ধে একাধিক শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ৫ জুলাই নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং ৩১ জুলাই স্কুল ম্যানেজিং কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তা গ্রহণ করে। তবে পদত্যাগের পরও তিনি হাল ছাড়েননি। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে তাকে পুনরায় পদে বসানোর চেষ্টা করা হয়। গত ১৬ আগস্ট হামলার সময় জোরপূর্বক একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যেখানে কিরণময় দত্তকে পুনরায় সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অফিসকক্ষে বসিয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।
এই অরাজক পরিস্থিতির মুখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সাথে, বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং মানহানির বিপরীতে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে নথিতে।

















