জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি। তবে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে যদি বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিপ্রায় জানানো হয়, তবে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদের এক অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে জানতে চান, ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশ যুক্ত হলে রাষ্ট্র কী ধরনের সুবিধা পেতে পারে বা এর মাধ্যমে দেশ কী অর্জন করতে পারে।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চুক্তিটি মূলত তিনটি দেশের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে এবং বাংলাদেশ একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তবে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আসেনি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে বর্তমান সদস্য দেশগুলোর ইচ্ছার ওপর। যদি ওই দেশগুলো বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, তবে সরকার তা গুরুত্বের সাথে এবং ইতিবাচকভাবে খতিয়ে দেখবে।

চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার ফলে লাভ-ক্ষতি বা সুনির্দিষ্ট সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার সময় এখনো আসেনি বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি এই চুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তার মতে, এই চুক্তিটি যদি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হয়, তবে এটি বিশ্ব মুসলিম সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হতে পারে।

চুক্তিটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি মূলত মুসলিম পরিবারের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়; তাই এ নিয়ে বাইরের অন্য কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সামগ্রিকভাবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, বর্তমানে বাংলাদেশ এই চুক্তির সদস্য নয় এবং যোগদানের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সুবিধার কথা এখনই বলা সম্ভব নয়, তবে সদস্য দেশগুলোর আমন্ত্রণ এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।