পিরোজপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের নিরলস শ্রম, মেধা ও একাগ্রতার ফসল হিসেবে অবশেষে সরকারি নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) লাভ করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধন পাওয়ার মাধ্যমে সংগঠনটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করল। এই অর্জন স্থানীয় তরুণদের মাঝে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

সমাজসেবা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের মাধ্যমে অবহেলিত যুবসমাজ ও নারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে তোলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ৪০ জন নিবেদিতপ্রাণ সদস্যের ব্যক্তিগত ডোনেশন বা অনুদানের মাধ্যমে পরিচালিত এই সংগঠনটি এরই মধ্যে নিজেদের কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিবন্ধন লাভের ফলে এখন থেকে তারা আরও বড় পরিসরে সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবে।

এই মাহেন্দ্রক্ষণে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবী এম এ নকিব নাছরুল্লাহ্ গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর মাধ্যমে তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। নিবন্ধন পাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেল। আমরা আমাদের সততা ও নিষ্ঠা বজায় রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।”

নিবন্ধন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপ-পরিচালক জনাব আব্দুল হাই মল্লিক-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিরলস সহযোগিতায় জটিল এই প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ‘কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন’-এর এই সরকারি স্বীকৃতি তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও দৃঢ় করবে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ নকিব নাছরুল্লাহ্ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক দিকনির্দেশনা আর জনগণের আশীর্বাদ থাকলে আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হব। আগামী দিনগুলোতেও আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশের কল্যাণে আরও বড় অবদান রাখতে চাই।”

সংগঠনটির এই সাফল্যে এলাকার শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আগামী দিনে তরুণদের হাত ধরেই সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাবে কদমতলা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।