জুলাই আন্দোলনের সময় স্নাইপার রাইফেলের ব্যবহারের যে দাবি তোলা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আন্দোলনের পক্ষে থাকা মানুষ শেখ হাসিনা সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য লুকিয়ে স্নাইপার থেকে গুলি চালিয়েছে—এই ধরনের কথা সম্পূর্ণ সাজানো এবং বাস্তবতার বাইরে।

স্নাইপার রাইফেল নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্ক ও প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্নাইপার রাইফেল নিয়ে কোত্থেকে যেন অদ্ভূত কথা আসছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে থাকা মানুষ স্নাইপার ব্যবহার করে মানুষকে হত্যা করেছে যাতে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিপদে ফেলা যায়। এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরির চেষ্টা, যা পুরোপুরি ভুল এবং বিভ্রান্তিকর।’

একইসাথে, জুলাই আন্দোলনে ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ (৭.৬২) মিলিমিটার বোরের গুলি ব্যবহারের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেনের বিস্ময় প্রকাশ করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বুলেট নিয়ে আমরা অনেক আলোচনা করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টাও এই বিষয়ে কথা বলেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে অবাক হয়েছি যে, একজন অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তা হয়ে তিনি কেন এই বিষয়টি দেখে অবাক হলেন।’

বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, পুলিশের হাতে যে অস্ত্র থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘টাইপ ফিফটি সিক্স’ রাইফেল, যা সাধারণত ‘চায়নিজ রাইফেল’ হিসেবে পরিচিত। এই রাইফেলের ব্যবহৃত গুলিই হলো ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ মিলিমিটার বোরের। তাই এই গুলির উপস্থিতিকে স্নাইপারের প্রমাণ হিসেবে দেখাটা কারিগরি দিক থেকে অযৌক্তিক। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এর জন্য কি স্নাইপার হতে হবে? কোত্থেকে এই অদ্ভুত ধারণা আসছে!’

তবে পুলিশের হাতে টাইপ ফিফটি সিক্স রাইফেলের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সাধারণ পুলিশের হাতে এই ধরনের অস্ত্র থাকার কথা ছিল না। তিনি বলেন, ‘পুলিশের হাতে শটগান থাকা উচিত এবং লেথাল উইপন হিসেবে ছোট রেঞ্জের পিস্তল থাকা উচিত। কিন্তু টাইপ ফিফটি সিক্স রাইফেলের প্রধান সমস্যা হলো এর রেঞ্জ অনেক বেশি। এর লেথাল রেঞ্জ চারশ থেকে পাঁচশ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অনেক দূরের সাধারণ মানুষও এতে হতাহত হতে পারে।’

অস্ত্রটির উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, টাইপ ফিফটি সিক্স মূলত সেনাবাহিনীর অস্ত্র ছিল। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী যখন অটোমেটিক অস্ত্র ব্যবহার শুরু করে, তখন সম্ভবত তা বিজিবির কাছে এবং সবশেষে পুলিশের কাছে পৌঁছায়। বর্তমানে পুলিশ নিয়মিত এই অস্ত্র ব্যবহার করে এবং এর বুলেটই হলো ৭.৬২ মিলিমিটার।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশের হাতে এই অস্ত্র সকাল-বিকেল দেখা যায়। তাই একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা কীভাবে এই প্রশ্ন তুললেন, তা তার কাছে রহস্যজনক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছে লেথাল উইপন ছিল এবং বিজিবির কাছে তো ছিলই। বিজিবির গুলি করার ছবি এবং পুলিশের টাইপ ফিফটি সিক্স অস্ত্র দিয়ে গুলি করার ছবি ও ভিডিওর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।’