রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠার পরপরই তাকে বদলি করা হয়েছে। উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ ও তার অপসারণ দাবির মাত্র একদিন পরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে বদলির আদেশটি সোমবারই জারি করা হয়েছিল।
গত রোববার বাঘা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউএনও শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তার অবিলম্বে অপসারণের দাবি জানান। এই কর্মসূচির পরদিনই তাকে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল রেহাসেন এবং উপজেলা যুবদলের নেতা সালেহ আহাম্মেদ সালাম অভিযোগ করেন যে, শাম্মী আক্তার একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), এবং বাঘা ও আড়ানী—এই দুই পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত ছিল। বিএনপি নেতাদের দাবি, একজন কর্মকর্তার হাতে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় প্রশাসনিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। বিশেষ করে দুটি পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে মুখে মুখে ঘুরছে। তাদের মতে, এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসবে এবং দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হবে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ এবং সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার তালিকা প্রকাশ ও পরীক্ষা গ্রহণেও তিনি ব্যাপক অনিয়ম করেছেন বলে দাবি করা হয়।
তবে এসব গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বদলি হওয়া ইউএনও শাম্মী আক্তার। তিনি জানান, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বরং কিছু বিএনপি নেতার অনৈতিক দাবি ও তদবির তিনি রক্ষা করেননি, তাই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।











