নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে অপসারণের দাবিতে চরম উত্তাল হয়ে উঠেছে শ্যামনগর উপজেলা। টানা চতুর্থ দিনের মতো শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে এই বহিষ্কৃত এমপির পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে নেমে আসেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
শনিবার বিকেল ৫টায় শ্যামনগর সদরের বাবলাতলা মোড় থেকে এক বিশাল মিছিলের সূচনা হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এমএম প্লাজার সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। এই সমাবেশে শ্যামনগর পৌরসভা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে একে একে তাদের বক্তব্য রাখেন আজিজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিউল আযম শফি, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জিন্নাত আলী গাজী, মহাইমিনুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, আব্দুস সালাম এবং নির্মল কুমার মণ্ডলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঘটে যাওয়া অনৈতিক ঘটনার কারণে আজ পুরো শ্যামনগরবাসী লজ্জিত ও অপমানিত। এই পাপের দায়ভার থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে এবং এলাকার সম্মান রক্ষায় গাজী নজরুলের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তাঁরা আরও দাবি জানান যে, পবিত্র জাতীয় সংসদকে কলঙ্কমুক্ত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্পিকারের মাধ্যমে তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, বহিষ্কৃত এই এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়েছেন সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। গত বৃহস্পতিবার শিবপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “ওই মেয়ের আব্বা ও বড় ওয়াইফসহ সবাইকে ডেকে নিয়ে দেখলাম ওই মেয়ের আবদার—যে কয়দিন বাঁচবো এমপি সাহেবের সেবা করে যাব। এভাবে মেয়েটির দাবির মুখে তার বাপ-মা বাধ্য হয়ে বাড়িতে বিবাহের ব্যবস্থা করেছে।”
মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আরও দাবি করেন যে, ঘটনাটি অসামাজিক হলেও তা অনৈতিক ছিল না; তবে দল এমন কাজ প্রশ্রয় দেয় না বলেই গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখে এমন মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাধারণ মানুষ একে নারীর প্রতি অসম্মান এবং নৈতিকতার চরম অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য আংশিক এবং ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। বর্তমানে শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ এবং সচেতন নাগরিকরা বিতর্কিত এমপি গাজী নজরুলের সংসদীয় পদ বাতিলের চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।






