রামগতি-কমলনগর: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিপুল পরিমাণ ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন গোপনে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালের কয়েকটি কার্টনভর্তি ওষুধ ও ইনজেকশন পাশের একটি ডোবায় ফেলে নষ্ট করা হয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটিতে ওষুধ সংকটের কথা বলে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। অথচ এখন বিপুল পরিমাণ ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অজুহাতে নষ্ট করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ওষুধ বিনষ্টের পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দাবি জানান স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সবসময় অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। রোগীর চাপ বেশি হলেও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতির অভিযোগ থাকে সবসময়। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৪-৫টি কার্টনভর্তি ওষুধ ও ইনজেকশন স্থানীয় একটি ডোবায় বিনষ্ট করে ফেলতে দেখা যায়।ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় মোনায়েম,কামরুল সহ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার দীর্ঘদিন নিজ উপজেলায় কর্মরত থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা কমে গেছে।তিনি নিজের খেয়ালখুশি মত হাসপাতালে আসেন। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামনাশীষ মজুমদার ওষুধ বিনষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গত বছর ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ওষুধ কোম্পানি থেকে ৭০ টি স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ৫৯ টি ব্যবহার করা হয়েছে। বাকী ১১টি ওষধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো নষ্ট করে স্টোর ক্লিয়ার করা হয়েছে।
ভিডিওতে ৫-৬ টি কার্টুন দেখা গেছে এবং
সরকারি সম্পদ বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করতে হলে নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।






