ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম। বিরোধী দলের সদস্যদের ওয়াকআউটের পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সাথে যে ধরনের আচরণ করছে, তা অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়েও নিকৃষ্ট।
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলোর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে, যা চরম বৈষম্যের প্রতিফলন। তিনি বলেন, "দেশের মানুষ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে বিএনপি নিজেই বৈষম্যের চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে।"
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সার ও বিদ্যুতের চরম সংকট বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। তিনি আশা করেছিলেন যে, সংসদের এই অধিবেশনে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, শাহবাগের আন্দোলনের ফলেই তিনি আজ এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন।
গণভোটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাহের জানান, তিনি এবং বিএনপি প্রধান তারেক রহমানসহ দলের সবাই গণভোটের পক্ষে ছিলেন। তবে বিএনপি এখন জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির চাপে পড়ে তথাকথিত 'দুর্বল ও মেরুদণ্ডহীন' অন্তর্বর্তী সরকার গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন একসাথে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। আর এই প্রতারণার প্রতিবাদেই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, ওয়াকআউটের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছেন বলে সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। এর ফলে সংসদের ভেতরে হইচই ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে অচলাবস্থা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহারের কথা জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।















