গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৫২নং বড় সাতপাড় মৌজায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। অনুমতি ব্যতীত অবৈধভাবে পাকা ঘর ও স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার দায়ে দুলাল বাগচি নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়িতে এজাহার দাখিল করেছে পানি উন্নয়ন বোড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হরিদাসপুর শাখা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম এ এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগাধীন সদর উপ-বিভাগের আওতাধীন ৫২নং বড় সাতপাড় মৌজার ৪ নং খতিয়ান এবং বিআরএস ১৩২৬, ১৩২৭, ১৩২৮, ১৩২৯, ১৩৬০, ১৩৬১, ১৩৬৩ ও ১৪১৯ নং দাগের পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে অনুমতি ছাড়া পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড় গ্রামের নরেন বাগচির ছেলে দুলাল বাগচি।
এর আগে গত ৫ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে মৌখিকভাবে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। সে সময় অভিযুক্ত দুলাল বাগচি আর কোনো কাজ করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করলেও পরবর্তীতে তা ভঙ্গ করে পুনরায় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩'-এর ১১ ধারা, 'হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩', 'পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংংশোধিত ২০১০)' এবং 'বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০' অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে এবং সরকারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি এড়াতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, সাতপাড় বাজার সংলগ্ন ও বাজারে সরকারি ভুমি দখল করার একটি বিশাল চক্র রয়েছে। এই চক্রে কাজ অবৈধভাবে বিল্ডিং ও ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ঠিকাদারি নেয়। বিনিময়ে তাদের কাছে লক্ষধিক অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এই জায়গা দখল করে কেউ করেছে ব্যাংক, কেউ করেছে তিন তালা ভবন
দোকানপাট, কাঠের ব্যবসা, করাত কল, অবৈধ বাড়িঘর নির্মাণ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান করেছে। সরকারি জায়গায় কোটি কোটি টাকা
অ্যাডভান্সে দোকানঘর বিক্রয় করা হচ্ছে বলে জানায় এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে পুলিশী পদক্ষেপ এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড৷

















