ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে জো রুটের পুনরাগমনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। গত সপ্তাহে বেন স্টোকসের উত্তরসূরি হিসেবে পুনরায় নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন রুট। তবে প্রথম দফায় অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর আবারও এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণে রুটের আগ্রহ গিলক্রিস্টকে অবাক করেছে।
সম্প্রতি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর বড় ধরনের রদবদল এনেছে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ঐ সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। এই শূন্যতা পূরণে ইসিবি পুনরায় জো রুটকে অধিনায়ক নির্বাচিত করেছে। এছাড়া ম্যাককালামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার স্বদেশি স্টিফেন ফ্লেমিং।
রুটের এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিলক্রিস্ট বলেন, "রুটকে আবারও অধিনায়ক হিসেবে দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। অধিনায়ক হিসেবে তার আগের অধ্যায় যেভাবে শেষ হয়েছিল এবং এরপর একজন বিশুদ্ধ ব্যাটার হিসেবে তিনি যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, সেই প্রেক্ষাপটে তার পুনরায় নেতৃত্বে ফিরে আসাটা আমার কাছে অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে।"
তবে অবাক হলেও, নতুন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য রুটকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গিলক্রিস্ট। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড হয়তো মনে করেছে রুটই এই দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। গিলক্রিস্ট বলেন, "হয়তো ইসিবি মনে করেছে এই মুহূর্তে তাদের এমন কেউ প্রয়োজন, যে এই কঠিন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। তাই বোর্ড রুটকেই বেছে নিয়েছে। নেতৃত্বের এই চ্যালেঞ্জ আবারও গ্রহণ করায় আমি তাকে অভিনন্দন জানাই।"
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী অধিনায়ক ছিলেন রুট। মোট ৬৫টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে সমান ২৭টি করে জয় ও হারের স্বাদ পেয়েছে ইংলিশরা। ইংল্যান্ডের টেস্ট ইতিহাসে নেতৃত্ব বিবেচনায় এটিই সর্বোচ্চ জয় ও হারের রেকর্ড। তবে তার প্রথম মেয়াদের শেষ দুই বছর ছিল বেশ হতাশাজনক। ঐ সময়ে খেলা ১৭টি টেস্টের মধ্যে মাত্র ১টিতে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের মার্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হারের পর নেতৃত্ব হারান রুট। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় দফায় তিনি ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান।











