মোঃ মমিন আলী
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনী আমেজ ইতিমধ্যেই প্রবল হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন থেকে নিজ নিজ অবস্থান সুসংহত করতে মরিয়া। মাঠ পর্যায়ে জনমত গঠন, গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আত্রাই উপজেলার ৪ নম্বর পাঁচুপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন মোহাম্মদ নিয়ামত আলী বাবু।
প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, ওয়ার্ড, বাজার এবং জনবহুল এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন তিনি। কেবল রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের দৈনন্দিন সমস্যার কথা শোনাকেই তিনি তার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যা, এলাকার সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত মতামত অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনছেন নিয়ামত আলী বাবু। তিনি কথা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
গণসংযোগকালে মোহাম্মদ নিয়ামত আলী বাবু বলেন, "পাঁচুপুর ইউনিয়নের উন্নয়নকে আরও গতিশীল ও টেকসই করতে হলে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আমার প্রধান লক্ষ্য হবে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, আধুনিক এবং সম্পূর্ণ সেবামুখী ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পাবে।"
তিনি তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যুব উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তার মতে, যুবসমাজের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কৃষির আধুনিকায়ন হলে পাঁচুপুর ইউনিয়ন দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
সম্প্রতি তার গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচির এক পর্যায়ে তিনি স্থানীয় কয়েকটি হোটেলের কর্মচারীদের মাঝে সৌজন্য হিসেবে টি-শার্ট বিতরণ করেন, যা সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। পাশাপাশি দোকানদার, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, যুবক এবং প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করার আশ্বাস দেন।
আবেগী কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি এই এলাকার সন্তান। শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের সুখে-দুঃখে এবং বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সাধারণ মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা, দোয়া এবং আস্থাই আমাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সাহস জুগিয়েছে। জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তবে আমি কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থের কথা চিন্তা না করে পুরো পাঁচুপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনসেবার পথ কখনোই সহজ ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবুও মানুষের সেবা করার প্রবল ইচ্ছা থেকে তিনি কখনোই পিছিয়ে আসেননি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি এবং এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আর্তমানবতার সেবায় নিয়ামত আলী বাবুর নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার কারণে তার নাম ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। নিয়মিত গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে একটি নিবিড় ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, মোহাম্মদ নিয়ামত আলী বাবু বর্তমানে আত্রাই থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পাঁচুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।








