দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়ামহলে যে আলোচনা চলছিল, অবশেষে তা বাস্তবে রূপ নিল। বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হলেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার লিটন দাস। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে ওয়ানডে অধিনায়ক পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে অর্থাৎ ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—উভয় ফরম্যাটেই নেতৃত্ব দেবেন লিটন। পাশাপাশি ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উদীয়মান তারকা তাওহীদ হৃদয়কে। তবে টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তই বহাল থাকছেন।
লিটন দাসের এই নিয়োগের ফলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব হারালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০২৪ সাল থেকে শুরু করে সম্প্রতি সমাপ্ত জিম্বাবুয়ে সিরিজ পর্যন্ত মিরাজের নেতৃত্বে মোট ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এই সময়ে ১০টি ম্যাচে জয়ী হলেও ১৪টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে টাইগারদের। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচে শান্তর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মিরাজ।
আনুষ্ঠানিকভাবে গত বছরের জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে শুরু করে চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ পর্যন্ত বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নিয়মিত অধিনায়ক ছিলেন মিরাজ। তবে তার শুরুর পথটি খুব একটা সহজ ছিল না; শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এরপরই শুরু হয় মিরাজের অধিনায়কত্বের চমক। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জয় করে তিনি নজর কাড়েন। কিন্তু জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে সেই জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারেননি তিনি; ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারতে হয় বাংলাদেশকে।
ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের অভিজ্ঞতা একেবারে নতুন নয়। এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৭টি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সামগ্রিক হিসেবে এখন পর্যন্ত ১টি টেস্ট, ৭টি ওয়ানডে এবং ৩১টি টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লিটন। বুধবার বিসিবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পুনরায় ফিরে পেলেন ওয়ানডে দলের নেতৃত্বভার, যা সামনে টাইগারদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।











