স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর মহানগরের ৪৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ভুলুকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এই বহিষ্কারাদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন তার অনুসারীরা। দলের দুঃসময়ে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে অবদান রাখা একজন ত্যাগী নেতাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ায় তৃণমূলের রাজনীতিতে হতাশা দেখা দিয়েছে।
কামাল হোসেন ভুলুর অনুসারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, প্রায় ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে একাধিকবার বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে।
২০০৪ সালে গাজীপুরের তৎকালীন সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসামি করা হয় বলে দাবি সমর্থকদের। ওই মামলায় দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর ২০১৪ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন। প্রায় দুই বছর কারাবাসের পর উচ্চ আদালত থেকে তিনি সসম্মানে খালাস পান।
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়। চার মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেও রাজনৈতিক মামলার বেড়াজালে তাকে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া ও আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।
দলের কঠিন সময়ে যিনি নিজের জীবন ও পরিবার বাজি রেখে মাঠ ছাড়েননি, তাকে শুধুমাত্র গণমাধ্যমের খবরের ওপর ভিত্তি করে বহিষ্কার করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
— একজন স্থানীয় বিএনপি কর্মী (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগৃহীত)
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কামাল হোসেন ভুলুর পক্ষে সংহতি জানিয়ে শত শত পোস্ট করা হচ্ছে। নেতা-কর্মীদের ভাষ্য, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কেবল গণমাধ্যমের একপাক্ষিক সংবাদের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।






