মোঃ মিঠু মিয়া: গাইবান্ধা জজকোর্টের প্রধান ফটক সংলগ্ন সড়কে আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যক্তিকে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৫ জুলাই দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গাইবান্ধা সদর থানায় পাঁচজনকে
আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
আহত ব্যক্তির নাম মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪১)। তিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এজাহারে নামীয় আসামিরা হলেন— মোঃ মিজানুর রহমান মিঠু (৪৬), মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৬), মোঃ আব্দুল আজিজ (৬৫), মোঃ আব্দুস সামাদ (৫৫) ও মোছাঃ মঞ্জুয়ারা বেওয়া। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সিআর মামলা (নং-৪৭১/২৫) দায়ের করেন। গত ১৫ জুলাই ওই মামলার পূর্বনির্ধারিত হাজিরার দিন থাকায় শহিদুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত হন।
হাজিরা শেষে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তিনি ও তার ভাইয়েরা বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের জজকোর্টের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের পথরোধ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে আসামিরা লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন।
একপর্যায়ে আসামি মিজানুর রহমান মিঠু লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি তার মুখে লাগে। এতে তার ওপরের মাড়ির দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং মুখমণ্ডল রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আসামিরা তাকে লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মারধরের সময় অপর আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন ভুক্তভোগীর পকেট থেকে নগদ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। এ সময় তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় স্বজনরা শহিদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ জানায়, জজকোর্টের সামনে হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

















