ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করতে না পারলে দেশ ও জাতি চরম বিপদের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন, ফ্যাসিবাদ দমন করতে না পারলে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিষয়ক একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে দেশবাসীকে আহ্বান জানান, বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে। তিনি বলেন, "কোনো মায়ের বুক যেন আর কখনো খালি না হয়, কোনো পরিবারকে যেন তাদের প্রিয় স্বজনকে হারিয়ে রাতের পর রাত অপেক্ষায় থাকতে না হয়। এমন একটি নিরাপদ, ন্যায়বিচারভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের সকলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।" বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে তিনি জোর দেন। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি, তা না হলে জাতি হিসেবে সবাই বিপদের সম্মুখীন হতে পারেন।
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে আলোকপাত করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জনগণই সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছে। জনগণের কথা বলার সুযোগ না দিলে এবং তাদের গঠনমূলক মতামতকে গুরুত্ব না দিলে জনপ্রতিনিধিরা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জনগণের কথা শোনা এবং তাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা জেলার নানা সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য খান মশিউর রহমান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, বাগেরহাট এনসিপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার সোহেলসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।



















