মোহাম্মদ সেলিম: রক্তের বিনিময়ে অপমান: ঈদগাঁওর হাসপাতালগুলোতে রক্তদাতাদের প্রতি অমানবিক আচরণের অভিযোগ।

মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যারা নিজের খাওয়া-ঘুম উপেক্ষা করে, ব্যক্তিগত খরচায় হাসপাতালে ছুটে আসেন—সেই নিঃস্বার্থ রক্তদাতারা আজ কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চরম অবমূল্যায়ন ও অবহেলার শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা আর রোগীর স্বজনদের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসছে মানবিক সংগঠন ‘ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংক’।

​সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীদের অভিযোগ, একটি ব্যাগের রক্তের ব্যবস্থা করতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুদ্ধ করতে হয়। অথচ রক্তদানের পর সেই মহান রক্তদাতাকে দেওয়া হয় না ন্যূনতম সম্মানটুকু। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহের পর রক্তদাতাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালের জটিল কাগজপত্রের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

​ বর্তমানে ঈদগাঁও উপজেলার কোনো হাসপাতালেই রক্তদাতাদের জন্য আলাদা কোনো বসার বা বিশ্রামের সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই। রক্ত নেওয়ার পরপরই বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও রক্তদাতা তা পান না।

​ রক্তদানের কাজ শেষ হওয়ামাত্রই রোগীর স্বজনরা রক্তদাতার প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। ১০ মিনিট বসার সুযোগটুকু দিতেও অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করা হয়।

​ রক্তদানের প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য বিভিন্ন ফরমালিটিজ বা কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন করতে রক্তদাতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঈদগাঁও ব্লাড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও স্বেচ্ছাসেবী রক্তযোদ্ধারা বলেন, "যে মানুষটি নিজের শরীর থেকে রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাচ্ছেন, তাকে কেন এভাবে অবহেলা ও অমর্যাদা সহ্য করতে হবে? এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এখনই যদি এই চরম অবমূল্যায়নের প্রতিবাদ না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো কোটি টাকা খরচ করেও মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্ত পাওয়া যাবে না।"

​রক্তদাতারা হাসপাতালের প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে রক্তদাতাদের জন্য বসার সুনির্দিষ্ট জায়গা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, রক্তদাতাদের প্রতি এ ধরনের অবহেলার মানসিকতা পরিবর্তন না হলে তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দিতে বাধ্য হবেন।