মোহাম্মদ সেলিম: কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভাদিতলা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র ডাকাত দলের ভয়াবহ তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঈদগাঁওর ভাদিতলা আলী বিন আবী তালিব (রা.) মাদ্রাসা সংলগ্ন শফিস ফকিরের ব্রিজের ওপর এই ছিনতাই ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে ১২ থেকে ১৪ জনের একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাত দল শফিস ফকিরের ব্রিজের ওপর অবস্থান নেয়। এ সময় পথচারীদের গতিরোধ করে তাদের বেদম মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীকে লক্ষ্য করে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। জীবন বাঁচাতে স্থানীয়রা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে ডাকাত দল পিছু হটে পাহাড়ি দুর্গম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।
ফেলে যাওয়া জুতাই এখন একমাত্র আলামত
তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দল ঘটনাস্থলে দুই জোড়া জুতা ফেলে যায়। স্থানীয়রা এই জুতাগুলো উদ্ধার করেছেন। এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধীদের ফেলে যাওয়া এই আলামত কি তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কোনো ভূমিকা রাখবে, নাকি অন্যান্য ঘটনার মতো এটিও তদন্তের আড়ালে হারিয়ে যাবে?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ
ঈদগাঁও এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন ও মাদক কারবারসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জনবহুল এলাকায় ডাকাত দলের এমন প্রকাশ্য তাণ্ডব ও নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার অভাব বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভাদিতলার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরাধীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠলেও এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান টহল বা বিশেষ অভিযানের কোনো লক্ষণ নেই।
জনসাধারণের দাবি
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবিলম্বে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ঈদগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার এই এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কি স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সাথে এর আগে কোনো আলোচনা হয়েছে, নাকি এটিই আপনাদের পক্ষ থেকে প্রথম বড় প্রতিবাদ?






