চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন ভারতে পালিয়ে আত্মগোপন করার এক সুপরিকল্পিত নীল নকশা তৈরি করেছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এই উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে ভারতের একটি আধার কার্ড ছিল বলে নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ডেভিড ইমন ও তাঁর সহযোগীরা চট্টগ্রাম ছেড়ে প্রথমে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। সেখানে তাঁরা নিজেদের পরিচয় গোপন করতে পোশাক পরিবর্তন করেন, ব্যবহৃত যানবাহন বদলান এবং এমনকি গাড়ির চালকও পরিবর্তন করেন। এরপর খুলনা হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাঁরা পুলিশের জালে ধরা পড়েন।
পুলিশ সুপার আরও বিস্তারিত জানান, যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় তল্লাশির সময় ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ভারতে পৌঁছে নিরাপদে বসবাসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বড় সাজ্জাদ তাঁকে এই কার্ডটি সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ওই আধার কার্ডটিতে 'আজহার খান' নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। কার্ডটিতে ভারতীয় নাগরিক পরিচয়পত্রের আদলে ছবি, জন্মতারিখ এবং নির্দিষ্ট পরিচয় নম্বর রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, কার্ডটি আসল নাকি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা কোনো নকল পরিচয়পত্র। এই বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপন করার কোনো বড় পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে, আধার কার্ডটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, এর পেছনে আর কারা জড়িত এবং সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মানবপাচারকারী বা দালাল চক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে আধার কার্ডটির বৈধতা এবং ডেভিড ইমনের প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে পুলিশ এখনো চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করেনি। বিস্তারিত তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।











