চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রায়হানকে গ্রেপ্তারে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের এক বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রায়হান একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পর চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্তব্য করেছেন যে, পালিয়ে গেলেও সন্ত্রাসী রায়হান পুলিশের হাতে ‘দোজখ’ দেখে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে অতর্কিত অভিযান চালায়। সে ছাদ থেকে লাফিয়ে অলৌকিকভাবে পালিয়ে গেলেও এ ধরনের অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ জেলা পুলিশের নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধীরা যখন বুঝতে পারে যে তারা ধরা পড়ার মুখে অথবা তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তখন তারা বিদেশে অবস্থানরত গ্যাং লিডারদের শরণাপন্ন হয়। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের প্ররোচনায় এবং পরামর্শে এই অপরাধীরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এছাড়া এলাকায় অস্থিরতা তৈরি করতে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে থাকে।

এই জটিল চক্রটিকে দমনে পুলিশ নিবিড় তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘ শ্রমের মাধ্যমে জেলা পুলিশের কয়েকটি বিশেষ টিম গঠন করে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করে। ডেভিড ইমনের পলায়ন ও গ্রেপ্তারের রোমাঞ্চকর বর্ণনা দিয়ে এসপি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত ধূর্ত ও কৌশলী। তারা প্রচলিত কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক বা সিম কার্ড ব্যবহার না করে বিদেশি নম্বর এবং বিভিন্ন গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত।

দেশে আটকা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে ডেভিড ইমন বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করে। এই গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তার ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করে। প্রথমে দাউদকান্দিতে কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকার বিভিন্ন চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপের পরও সে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অবশেষে যশোরের পুলিশ সুপার ও লাকী লিটনের সহায়তায় গঠিত একটি বিশেষ টিমের মাধ্যমে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় এক ভোররাতে চূড়ান্ত অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ডেভিড ইমনসহ তার চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়, যারা বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও নাশকতার মূল হোতা অথবা ‘শুটার’ হিসেবে কুখ্যাত।

পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, অনেক সময় বিশেষ অপারেশনগুলোর তথ্য গণমাধ্যমে দ্রুত প্রকাশ পাওয়ার কারণে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো পরিচালনা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।