হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন এনসিপি নেতাদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি চরম গালিগালাজ করার পরও সাধারণ মানুষ যে এনসিপি নেতাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, এটাই তাদের বড় সৌভাগ্য।

রাশেদ খাঁন তার পোস্টে অভিযোগ করেন, এনসিপির নেতারা যে সব এলাকায় তাদের জুলাই পদযাত্রা পরিচালনা করতে যাচ্ছেন, সেখানকার বিএনপির এমপি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যারা নিজেদের আন্দোলনের কথা বলছেন, তাদের মুখে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি শোনা যাচ্ছে না; বরং কোথাও কোথাও তাদের কর্মসূচিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত রহস্যজনক। তার মতে, এনসিপির নেতারা পরিকল্পিতভাবে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার জন্য ময়দান তৈরি করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অকারণে গালিগালাজ করবেন, আবার বলবেন শব্দের বিপরীতে শব্দের রাজনীতি করতে? এই ধরণের দ্বিমুখী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শেখ হাসিনার পতন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, যেখানে শেখ হাসিনার একটি শব্দের কারণে প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হয়ে পতন হয়েছে, সেখানে আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান? তিনি সতর্ক করে বলেন, ধৈর্য্য সবার সীমাহীন নয়। প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘মুখের কারণে দুধভাত আর মুখের কারণে ঝাঁটা বাড়ুন’। স্থানীয় প্রতিনিধিদের অপমান করার পরেও যে অত্র এলাকার মানুষ তাদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করছে না, তা এনসিপি নেতাদের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের থানার মোড় এলাকায় এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমকে সোনালী ব্যাংকের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং জেলা সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি তাদের বহনকারী গাড়িটিও মারাত্মকভাবে ভাঙচুর করা হয়।

হামলার পর সারজিস আলম জানান, তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত ভেঙে গেছে, কারও মাথা ফেটে গেছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, জেলা সদস্য সচিবকে রড দিয়ে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং একজনের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় হাসপাতালের সামনেই তাদের ওপর পুনরায় হামলা চালানো হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন এই ঘটনায় ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জ শহরে কেউ যদি এসে অশালীন বক্তব্য দিয়ে শহরকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। অন্য কেউ এর দায়ভার নেবে না। তিনি আরও জানান, অপ্রীতিকর একটি ঘটনার খবর শুনলেও এর সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং কোনো অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ মানুষজনই ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।