প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কাজের পরিধি ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ফের বড় ধরনের পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস কিংবা আগামী মাসের শুরুর দিকেই মন্ত্রিসভায় এই রদবদল কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে কিছু মন্ত্রণালয়ে কাজের ধীরগতি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতেই এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার গঠনের প্রায় সাত মাস পূর্ণ হতে চললেও ইতিমধ্যে বিভিন্ন মহলে মন্ত্রিসভার সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনাটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং যৌক্তিক, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনার ওপর ন্যস্ত। মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সম্প্রসারণে রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং দীর্ঘদিন মূল্যায়ন-বঞ্চিত সিনিয়র নেতাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারগুলোর আমলে যারা কঠোর রাজনৈতিক নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং দলের দুর্দিনে যারা অবিচল ছিলেন, সেইসব অভিজ্ঞ নেতাদের এবার মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।

সম্ভাব্য তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এমপি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং নবনিযুক্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান এমপিও নতুন মুখ হিসেবে মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংসদীয় দলের মধ্য থেকে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি, এ বি এম আশরাফ উদ্দীন নিজান এমপি, এ বি এম মোশাররফ হোসেন এমপি, মজিবুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের মাহমুদা হাবিবা, এরশাদ উল্লাহ ও মো. আবুল কালামের (চৈতি কালাম) নামও গুরুত্বের সাথে আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র, কৃষি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় আরও জোরদার করতে এসব মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি প্রধানমন্ত্রীই জানাবেন।