ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার যেকোনো ধরনের চেষ্টা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিংবা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে সুপারিশ বা তদবির করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করা হয়। সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্রটি দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে মাঠ পর্যায়ে এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।

পরিপত্রে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও বদলির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ, দাপ্তরিক কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা, কর্মস্থলের প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তবে সম্প্রতি লক্ষ্য করা গেছে যে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী তাদের পদায়নের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল কিংবা অন্য কোনো অননুমোদিত মাধ্যমের আশ্রয় নিচ্ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় তার এই সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই ধরনের অননুমোদিত কার্যক্রম সরকারি চাকরির স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও পদায়ন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে চরমভাবে বিঘ্নিত করে। এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ণ করে না, বরং দায়িত্ব পালনের স্থিতিশীলতা, দাপ্তরিক জবাবদিহিতা এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে, এই ধরনের তদবির বা সুপারিশ করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ নম্বর বিধির সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ এবং নিয়মবহির্ভূত।

তবে পরিপত্রে একটি বিশেষ সুযোগের কথা বলা হয়েছে। যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিশেষ, অনিবার্য, যৌক্তিক এবং যথাযথভাবে প্রমাণযোগ্য কোনো কারণ থাকে, তবেই তিনি বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, তাকে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে, সরাসরি কিংবা কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, সুপারিশ বা তদবির করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বিধিসম্মতভাবে দাখিল করা আবেদনগুলো প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং জনস্বার্থ বিবেচনা করে যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করা হবে।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি বা অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তদবির না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিধিবহির্ভূতভাবে বদলির জন্য সুপারিশ বা তদবির করেন, অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে বিষয়টি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এ ধরনের কোনো কার্যক্রম যদি সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর কোনো বিধানের পরিপন্থী হিসেবে প্রতীয়মান হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দণ্ডমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।