মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার হুজরাপুর গ্রামের মো. লোকমান আলীর ছেলে মো. ইসহাক আলী (সাহেব) তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস ও ‘খ’ তফসিলভুক্ত জমি নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার নামে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর, একপাক্ষিক ও অসত্য দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসহাক আলীর দাবি, মফিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগের সূত্র ধরে তিনি সরল বিশ্বাসে তার জমি সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। জমির কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যখন জানা যায়, একটি অংশের দলিলের সঙ্গে সরকারি ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির বিষয় জড়িত এবং কাগজপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে, তখন আইনগতভাবে ওই জমির নামজারি করা সম্ভব হয়নি। ইসহাক আলী সাহেব বলেন, “আমি কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করিনি। চাচা (মফিজুল ইসলাম) সরল মানুষ হওয়ায় তার জমির কাগজপত্রের বিষয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। একটি খতিয়ানের এক একর পাঁচ শতক জমির নামজারি হয়েছে। পরবর্তীতে অন্য জায়গার জমির কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে সমস্যা ধরা পড়ে। সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী সেটি খারিজ করা সম্ভব নয়।”তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। টাকা নিয়ে আমি সরকারি জমি অবৈধভাবে খারিজ করে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছি—এমন অভিযোগ সঠিক নয়। আমি খারিজ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখি না। জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারাই সিদ্ধান্ত দেন।” ইসহাক আলী সাহেবের আরও দাবি, তার বক্তব্য গ্রহণ না করেই গত ১ সেপ্টেম্বর কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তাকে অভিযুক্ত করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টি নিয়ে ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। আমি কোনো সরকারি কর্মকর্তা নই এবং নামজারি অনুমোদন বা বাতিল করার ক্ষমতাও আমার নেই। তাই আমাকে সরকারি জমি খারিজ করে দেওয়ার নামে প্রতারণাকারী হিসেবে উপস্থাপন করা অন্যায়।”
ইসহাক আলী আরও বলেন, “আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তদন্ত করে প্রমাণ করা হোক। কিন্তু শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র ও টাকা লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।” তিনি জানান, জমির নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সরকারি নিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়। কোনো ব্যক্তির পক্ষে নিজের ইচ্ছায় সরকারি বা গেজেটভুক্ত জমি নামজারি করে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে ইসহাক আলী বলেন, “আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি। আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তে যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু তদন্তের আগেই আমাকে প্রতারক বা জালিয়াত হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইসহাক আলী। তার মতে, জমির কাগজপত্র, নামজারি প্রক্রিয়া এবং কথিত অর্থ লেনদেনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে।















