জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের বক্সিংয়ে অদম্য লড়াই লড়লেন বাংলাদেশের সেলিম হোসেন। ছেলেদের ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে থাইল্যান্ডের সাকাদা রুয়ামথামের কাছে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত হলেও, তার সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের গল্প এখন ক্রীড়ামহলে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিশিও জিমনেশিয়ামের রিংয়ে প্রাথমিক রাউন্ডের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে প্রথম রাউন্ডেই প্রতিপক্ষের প্রচণ্ড আঘাতে মাথা ফেটে যায় সেলিমের। তবে চরম যন্ত্রণার মাঝেও তিনি কাউকেই কিছু জানাননি এবং রিং ছাড়েননি। বরং অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়ে পুরো তিন রাউন্ডই লড়াই করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই বক্সার। পরাজয় মেনে নিলেও তার এই লড়াকু মনোভাব প্রশংসিত হয়েছে।

সেলিমের এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন দলের ম্যানেজার গাজী কামরুল ইসলাম। দেশের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, “প্রথম রাউন্ডেই মাথায় আঘাত পেয়েছিল সেলিম, কিন্তু আম্পায়ার সেটি খেয়াল করেননি। সে নিজেও কাউকে কিছু বলেনি এবং জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করে তিন রাউন্ডই খেলেছে। ওর এই ঝুঁকি নেওয়াটা মূলত দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। সে কিছুটা আবেগপ্রবণ, আর সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ায় তার মধ্যে এই দৃঢ়তা কাজ করেছে।”

আঘাতের গুরুত্ব সম্পর্কে কামরুল ইসলাম আরও জানান, সেলিমের মাথায় পাঁচটা সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকরা ২৭ তারিখ পর্যন্ত বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী ২৬ তারিখে তাকে পুনরায় ডাক্তার দেখাবেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত এবং ভয়ের কিছু নেই।

অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে সাইক্লিং ইভেন্ট থেকেও হতাশার খবর এসেছে। অসুস্থতার কারণে ছেলেদের রোড রেসিংয়ে অংশ নিতে পারেননি বাংলাদেশের সাবুর হোসেন। গত দুদিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন তিনি। স্থানীয় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিলেও প্রতিযোগিতায় নামার মতো শারীরিক সক্ষমতা ফিরে পাননি সাবুর। ফলে ইভেন্টে অংশ নিতে না পারাটা তার জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।