আগামী বছরের ২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরের চতুর্দশ সংস্করণ শুরু হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি থাকলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার লড়াই এরই মধ্যে জমে উঠেছে। মাঠে বসে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে দর্শকদের আগ্রহের যেন শেষ নেই। টিকিটের জন্য আবেদনের সংখ্যাই তার বড় প্রমাণ। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যে দেড় কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বের ১৪২টি দেশ থেকে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২টি টিকিটের আবেদন এসেছে। এসব আবেদন করেছেন ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭ জন নিবন্ধিত দর্শক। ২০২৭ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবারের বিশ্বকাপ। এবারের আসরের যৌথ আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। গত ১ অক্টোবর বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে আইসিসি। আইসিসির তথ্য অনুযায়ী, টিকিটের আবেদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। এই পাঁচ দেশের দর্শকদের কাছ থেকেই এসেছে সর্বাধিক আবেদন। দর্শকদের এমন অভূতপূর্ব সাড়ায় উচ্ছ্বসিত আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত।
তার মতে, এই বিপুল চাহিদাই প্রমাণ করে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আবেদন কতটা বিশ্বব্যাপী। আইসিসির বিবৃতিতে সংযোগ গুপ্ত বলেছেন, টিকিটের জন্য এই অভূতপূর্ব চাহিদা ক্রিকেট বিশ্বকাপের মর্যাদা ও আকর্ষণেরই প্রমাণ। একই সঙ্গে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আফ্রিকার আকর্ষণ এবং বিশ্বকাপ সামনে রেখে আইসিসি ও এর অংশীদারদের প্রচারণা দর্শকদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে, সেটিও এতে ফুটে উঠেছে। আগামী এক বছরে বিশ্বকাপ ঘিরে আরও ব্যাপক প্রচারণার পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসির। এ প্রসঙ্গে সংযোগ গুপ্ত বলেছেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো এক বছর বাকি। এই সময়ে আইসিসি বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম, একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রচারাভিযান ও নানা ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এসব উদ্যোগ ২০২৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে। আইসিসির ওয়েবসাইটে বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে আগামী ২১ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী নিবন্ধনের শেষ সময় ২২ নভেম্বর ভোর ৩টা ৫৯ মিনিট। টিকিটের জন্য নিবন্ধন করতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। একজন দর্শক একটি ম্যাচের জন্য একবারই আবেদন করতে পারবেন।
তবে বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচের টিকিটের জন্য আলাদাভাবে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আগে আবেদন করলেই টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে, এমন নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা প্রত্যেকের সুযোগ সমান থাকবে। কোনো ম্যাচের জন্য বরাদ্দ টিকিটের চেয়ে আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে কারা টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। লটারিতে নির্বাচিত দর্শকদের ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে কীভাবে টিকিট কিনতে হবে। যারা নির্বাচিত হবেন না, তারাও নিবন্ধনের সময় দেওয়া ই-মেইল ঠিকানায় ফলাফল জানতে পারবেন। অর্থাৎ দেড় কোটির বেশি আবেদন জমা পড়লেও এখনই কেউ টিকিট পেয়ে যাননি। এখন আসলে চলছে টিকিট কেনার সুযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা।





















