বরগুনার তালতলী উপজেলায় এক বসতবাড়ি থেকে বিরল প্রজাতির একটি বড় কৃষ্ণকালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠন 'অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী' (এএলপি) এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত সাপটিকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট বাজার এলাকার একটি বসতঘরে হঠাৎ এই বিশালাকার সাপটিকে দেখতে পান বাড়ির সদস্যরা। আতঙ্কিত হয়ে তারা দ্রুত সংগঠনটির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে এএলপির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক কাওসার ওরফে হৃদয় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিরল প্রজাতির এই বড় কৃষ্ণকালাচ সাপটিকে উদ্ধার করেন তিনি।

সংগঠনটির দাবি, বরগুনা জেলায় এর আগে বড় কৃষ্ণকালাচ সাপ উদ্ধারের কোনো রেকর্ড নেই। এমনকি পুরো বরিশাল বিভাগেই এই প্রজাতির সাপের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। তাদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, সর্বশেষ পিরোজপুর জেলায় এ ধরনের সাপ পাওয়ার রেকর্ড ছিল। ফলে বরগুনায় এই সাপের উপস্থিতি একটি বিশেষ ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

সংগঠনের পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, বড় কৃষ্ণকালাচ অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষধর এবং নিশাচর প্রকৃতির সাপ। দিনের তুলনায় রাতে এরা অনেক বেশি সক্রিয় থাকে এবং সাধারণত অন্ধকারের আড়ালেই খাবারের সন্ধানে চলাচল করে। এদের প্রধান খাদ্যের তালিকায় রয়েছে অন্যান্য প্রজাতির সাপ, বিশেষ করে ছোট সাপ শিকার করে এরা জীবনধারণ করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই জেলায় এ প্রজাতির সাপ উদ্ধারের এটিই প্রথম রেকর্ড বলে তারা মনে করছেন। বসতবাড়িতে ঢুকে পড়লেও স্থানীয়রা সাপটিকে হত্যা না করে উদ্ধার করতে সাহায্য করায় এটি রক্ষা পেয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সাপটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসাদুল্লাহ হাসান মুসা মনে করিয়ে দেন যে, প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাপসহ প্রতিটি বন্যপ্রাণীরই নিজস্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।