বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে অভাবনীয় আলোড়ন সৃষ্টি করা এবং আটটি অস্কার মনোনয়নের গৌরব অর্জন করা হলিউডের আলোচিত সিনেমা ‘বার্বি’-র সিক্যুয়েল নির্মাণের পরিকল্পনা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। চলচ্চিত্র প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার মাঝেও তারকাদের পারিশ্রমিক, চুক্তির কঠোর শর্তাবলী এবং স্বত্বের সময়সীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটির অগ্রগতি বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।

২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বার্বি’ কেবল একটি সিনেমা হিসেবে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে এটি বক্স অফিসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেয়। এই বিপুল সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় কিস্তি বা সিক্যুয়েল তৈরির উদ্যোগ নেয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স। তবে এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেলের সাথে করা চুক্তি। জানা গেছে, সিনেমাটির স্বত্বের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরেই শেষ হতে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি এই চুক্তিটি সফলভাবে নবায়ন বা চূড়ান্ত করা না যায়, তবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে পুরো প্রকল্পটি নতুন করে সাজাতে হতে পারে, যা সিনেমার মূল কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সিক্যুয়েলের জন্য প্রধান দুই তারকা মার্গো রবি এবং রায়ান গসলিংকে সিনেমার লাভের একটি বড় অংশ দিতে রাজি হতে নারাজ ওয়ার্নার ব্রাদার্স। বিশেষ করে ‘কেন’ চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করা অস্কার মনোনীত অভিনেতা রায়ান গসলিং তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ২০ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন, যা বর্তমানে আলোচনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি করেছে। প্রথম ‘বার্বি’ নির্মাণের সময় ওয়ার্নার ব্রাদার্স শুধুমাত্র পরিচালক গ্রেটা গারউইগের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছিল। কিন্তু মার্গো রবি এবং রায়ান গসলিংসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কলাকুশলীদের সঙ্গে সিক্যুয়েলের জন্য আগে থেকে কোনো লিখিত চুক্তি করা হয়নি। ফলে এখন বর্তমান আলোচনার টেবিলে তারকাদের উচ্চাশা এবং নির্মাতাদের কঠোর শর্ত পূরণ করা স্টুডিওটির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ম্যাটেল এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্সকে হয়তো নতুন অভিনয়শিল্পী এবং নতুন পরিচালক নিয়ে সিনেমাটি একদম শুরু থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। যদিও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সহ-সভাপতি পাম অ্যাবডি এবং মাইকেল ডি লুকা আশ্বস্ত করেছেন যে, ম্যাটেল এবং ‘বার্বি’-র মূল টিমের কাছে ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের আকর্ষণীয় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, সৃজনশীলতার প্রশ্নে আপস করতে নারাজ মার্গো রবি এবং পরিচালক গ্রেটা গারউইগ। তাদের মতে, তাড়াহুড়ো করে কাজ শুরু করার চেয়ে একটি শক্তিশালী এবং অর্থবহ গল্প তৈরি করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্গো রবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ‘বার্বি’কে কখনোই কোনো ট্রিলজি বা ধারাবাহিক চলচ্চিত্রের অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়নি। তবে তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি সত্যিই কোনো চমৎকার এবং নতুন ধারণা পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কলাকুশলীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়, তবে তিনি আবারও এই আইকনিক চরিত্রে ফিরতে আগ্রহী।

বর্তমানে ‘বার্বি’র মূল টিমের সদস্যরা তাদের ক্যারিয়ারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। মার্গো রবি বর্তমানে ‘ওশেন’স ১১’-এর প্রিক্যুয়েল নিয়ে কাজ করছেন, যা ইতিমধ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, রায়ান গসলিং যুক্ত হয়েছেন মার্ভেলের একটি নতুন এবং রহস্যময় প্রজেক্টে। আর পরিচালক গ্রেটা গারউইগ ব্যস্ত রয়েছেন নেটফ্লিক্সের বহুল প্রতীক্ষিত ‘নার্নিয়া’র প্রচারণায়। এই ব্যস্ততা এবং চুক্তির জটিলতার কারণে ‘বার্বি ২’ কবে পর্দায় আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেষ পর্যন্ত ভক্তদের অপেক্ষা নির্ভর করছে মূল টিমের সঙ্গে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চুক্তি সফল হওয়ার ওপর।