সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এক অদম্য মানুষ, যার নাম মুখলেসুর রহমান। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার জীবনযুদ্ধের এক করুণ অথচ অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প। দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললেও অন্যের করুণার ওপর নির্ভর না করে কিংবা হাত না পেতে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও বৃদ্ধা মায়ের ভরণপোষণ করছেন তিনি। গাছের ছাল ছাড়িয়ে সামান্য আয়ের মাধ্যমে তিনি যে অভাবনীয় জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা দেখে গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার।

মুখলেসুরের এই অদম্য লড়াইয়ের গল্প খায়রুল বাসারকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি মুখলেসুরের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাকে সহায়তা করার আন্তরিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি মুখলেসুরের জীবন নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে খায়রুল বাসার আবেগঘন ভাষায় লিখেছেন, ‘মুখলেসুর রহমান আমার ভাই। আমি প্রতি মাসে অল্প করে হলেও তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই। কেউ যদি আমাকে এই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেন, তবে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।’

এদিকে, ইতোমধ্যে মুখলেসুরের সঙ্গে প্রাথমিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, দেশে ফিরেই মুখলেসুর ও তার পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করবেন এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার উদ্যোগ নেবেন। গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) মুখলেসুরের বিষয়ে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনের মন্তব্য বক্সে এক নেটিজেন খায়রুল বাসারকে মেনশন করলে তিনি সংক্ষেপে জবাবে লিখেছেন, ‘কথা হয়েছে। দেশে ফিরে আমি ওনাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করব।’

মানবিক নানা উদ্যোগের জন্য খায়রুল বাসার বরাবরই সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত। কেবল মুখলেসুরের প্রতি সহমর্মিতাই নয়, এর আগেও তিনি সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের কবর খননকারী মনু মিয়ার প্রিয় ঘোড়া হত্যার ঘটনাটি ভাইরাল হলে, মনু মিয়ার জন্য নতুন একটি ঘোড়া কিনে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর্তমানবতার সেবায় খায়রুল বাসারের এমন সংবেদনশীল এবং নিঃস্বার্থ পদক্ষেপ নেটিজেনদের মনে গভীর প্রশান্তি ও অনুপ্রেরণা এনেছে।