জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সব ধরনের ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল। বুধবার (১২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই দাবি উত্থাপন করেন।

বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে তারা মনে করেন, স্মৃতি সংরক্ষণের উপায় হিসেবে জাদুঘরে ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে তা দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং দীর্ঘদিনের মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের দাবি, বাংলাদেশের এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ছিল। তারা মনে করিয়ে দেন যে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন সময়ে মূর্তি ও ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনগুলো দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এসব আন্দোলনে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, যা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

সংগঠনের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী এই বিষয়ে বলেন, "যে আন্দোলনের অন্যতম একটি প্রধান ধারা ছিল মূর্তি ও ভাস্কর্যের বিরোধিতা, সেই আন্দোলনের স্মৃতি ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরে যদি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত সাংঘর্ষিক এবং একটি পরিহাসমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, কোনো ঐতিহাসিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য ভাস্কর্য স্থাপন করা অপরিহার্য নয়। বরং আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, পোস্টার, তৎকালীন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র, শহীদদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শনের মাধ্যমে আরও বাস্তবসম্মত ও তথ্যনির্ভরভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিল মনে করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো একক ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; বরং এটি সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের সম্মিলিত সংগ্রামের ইতিহাস। তাই এই ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। তারা দাবি জানিয়েছেন, হেফাজতে ইসলামসহ সব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে উপজীব্য করে নির্মিত ভাস্কর্যসহ অন্যান্য সব ধরনের ভাস্কর্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করতে হবে।

একইসঙ্গে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের যে অপরিসীম অবদান রয়েছে, তা যথাযথভাবে ইতিহাসে সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান।

এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী, সহসভাপতি মুফতি কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, সাধারণ সম্পাদক মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক মুফতি এনায়েতুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি রিজওয়ান রফীকী, বাইতুল মাল সম্পাদক মুফতি আরিফ জব্বার, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুফতি সালমান ফারসী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি আবূ মুহাম্মদ রহমানী, মুফতি ইসমাইল বুখারীসহ আরও অনেকে।